৬ষ্ঠ বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের নিয়মাবলীঃ

তিনটি ক্যাটাগরীতে অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হবে।
ক্যাটাগরী এঃ ৭ম-৮ম শ্রেণী
ক্যাটাগরী বিঃ ৯ম-১০ম শ্রেণী
ক্যাটাগরী সিঃ একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণী
আগামী ২১ই আগস্ট শুক্রবার ভোর ০০ঃ০০ সময় থেকে অলিম্পিয়াডের রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে।রেজিস্ট্রেশনের সময় প্রতিযোগীর নাম, স্কুলের নাম, ঠিকানা, ইমেইল ঠিকানা(অপশনাল), মোবাইল নম্বর এবং ছবি অবশ্যই সংযোগ করতে হবে। যাদের ইমেইল ঠিকানা নেই তারা শুধুমাত্র ফোন নম্বর এর মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারবে।  
রেজিস্ট্রেশন ২টি পর্যায়ে সম্পন্ন হবেঃ    
১। প্রাথমিক
২। চুড়ান্ত
প্রাথমিক পর্যায়ে  প্রতিযোগীকে সকল তথ্য সহ নাম সংযোজন করতে হবে। নাম সংযোজনের সাথে সাথে প্রতিযোগীর ইমেইল ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বরে একটি পিন নম্বর পাঠানো হবে।এই পিন নম্বরটি প্রতিযোগীকে অবশ্যই সংরক্ষন করতে হবে যার মাধ্যমে প্রতিযোগী তার প্রোফাইল এর যে কোন রকম পরিবর্তন এবং সংশোধন করতে পারবে এবং চুড়ান্ত ধাপের রেজিস্ট্রেশন এই পিন নম্বরের মাধ্যমেই করতে হবে। একই ফোন নাম্বারে অথবা একই ইমেইল নম্বরে ২ টি রেজিস্ট্রেশন  করা যাবে না।   
চুড়ান্ত ধাপে প্রতিযোগীকে আঞ্চলিক অলিম্পিয়াড শুরুর এক সপ্তাহ আগে  পিন নম্বরের সাহায্যে  কনফারমেশন বাটন ক্লিকের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন চুড়ান্ত করতে হবে। অংশগ্রহণের সময় প্রতিযোগীদেরকে তাদের স্কুলের পরিচয় পত্র অথবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে হবে।

অলিম্পিয়াড শুরুর পূর্বে প্রত্যেক প্রতিযোগীকে বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের পক্ষ থেকে এস,এম,এস এর মাধ্যমে তাদের রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করা হবে এবং অংশগ্রহনের জন্য আমন্ত্রন জানানো হবে।

সরাসরি অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকে সার্টিফিকেট পাবে (হার্ড কপি) এবং সফট কপি ওয়েব সাইটে সংরক্ষিত থাকবে। আঞ্চলিক উৎসব থেকে প্রতিটি ক্যাটাগরি থেকে ২০ জন প্রতিযোগীকে জাতীয় পর্যায়ের জন্য মনোনীত করা হবে।

জাতীয় পর্যায় থেকে বিজয়ী ছাত্রছাত্রীদেরকে ট্রেনিং ক্যাম্পে ডাকা হবে। সেখান থেকে ৮ জন প্রতিযোগীকে হংকং এ অনুষ্ঠিতব্য ১৭তম এশিয়ান ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে এবং ৫ জনকে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ৪৭তম আন্তর্জাতিক ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে পাঠানো হবে। দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে অলিম্পিয়াড কমিটির সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলে গন্য হবে।

পূর্বের এশিয়ান ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীরা সরাসরি জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ কারিরা (বয়স এবং APhO ও IPhO নিয়ম অনুযায়ী ২০১৬ তে যোগ্য সাপেক্ষে )  সরাসরি জাতীয়  ট্রেনিং ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করতে পারবে।


প্রেস বিজ্ঞপ্তি

৪৬তম আন্তর্জাতিক ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ দলের দুর্দান্ত সাফল্য গত ৫-১২ জুলাই তারিখে ভারতের মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো বিশ্বের ২য় বৃহত্তম মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা “৪৬তম আন্তর্জাতিক ফিজিক্স অলিম্পিয়াড-২০১৫”। বিশ্বের ৮৬টি দেশের বাছাইকৃত সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে। বাংলাদেশের দিব্যতনয় ভট্টাচার্য “ব্রোঞ্জ মেডেল” এবং অভয় দত্ত “অনারেবল মেনশন” এওয়ার্ড অর্জন করে। বিগত তিন বছরের মধ্যে এটিই বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় অর্জন। দলের অন্যান্য সদস্যরা হলো মোহাইমেনুল ইসলাম, অর্পণ পাল এবং সুপান্থ রক্ষিত। টীম লিডার হিসাবে ছিলেন দলের কোচ প্রফেসর ডঃ আরশাদ মোমেন এবং ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের সাধারন সম্পাদক জনাব এফ,এ, জাহাঙ্গীর মাসুদ। ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের পরীক্ষা ২টি ধাপে অনুষ্ঠিত হয় - থিওরি ( তাত্ত্বিক ) এন্ড এক্সপেরিমেন্টাল (পরীক্ষণ)। এবছর দিব্য থিওরীতে ৩০ নম্বরের মধ্যে ১৫.৪ এবং এক্সপেরিমেন্টে ২০ নম্বরের মধ্যে ৮.৬ নম্বর অর্জন করে আর অভয় থিওরীতে ১০.৬ এবং এক্সপেরিমেন্টে ৮ নম্বর অর্জন করে। গত বছরের তুলনায় এবছর আমাদের ছাত্রদের এক্সপেরিমেন্টের নম্বর বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ যদিও পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপালের অনেক পরে আন্তর্জাতিক ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করা শুরু করে - তারপরও দক্ষিন এশিয়ার এই দেশ গুলোর মধ্যে ভারতের পরই আমাদের র‍্যাঙ্কিং। সুইটজারল্যান্ড ও লিখটেনসষ্টাইনের যৌথ আয়োজনে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে পরবর্তী অলিম্পিয়াড ১০-১৯শে জুলাই, ২০১৬ তে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সুইজারল্যান্ডের জাতীয় পতাকা এবং আন্তর্জাতিক ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলিত হয় এবং আন্তর্জাতিক ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের পতাকা সুইজারল্যান্ডের সরকারী প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়, সেসঙ্গে পরবর্তী বছরের জন্য সুইজারল্যান্ডকে পদার্থ বিজ্ঞানে বিশ্বের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে ২০৪১ সালের আন্তর্জাতিক ফিজিক্স অলিম্পিয়াড বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত করার প্রস্তাব করা হয়। বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হল পদার্থ বিজ্ঞান যার গবেষণার মাধ্যমেই শক্তি উৎপাদন, মহাকাশ বিজ্ঞান, পারমানবিক শক্তির প্রসার এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাপনাসহ বর্তমান সভ্যতার অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন ঘটেছে। সেজন্যই উন্নত দেশ গুলোর মধ্যে রাষ্ট্রীয় উদ্যেগে পদার্থ বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার, উন্নয়ন এবং গবেষণায় সর্বাধিক বিনিয়োগ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। দুঃখের বিষয়, ভারত ও পাকিস্তানে বিজ্ঞান অলিম্পয়াডগুলোতে সরকারী সরাসরি অনুদান ও সহায়তা থাকলেও এব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি । বেসরকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডাচ বাংলা ব্যাংকের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াড কমিটি দেশের প্রধান ১২টি অঞ্চলে ব্যাপক আয়োজনের মাধ্যমে আঞ্চলিক অলিম্পিয়াড এবং ঢাকার কার্জন হল এবং সিনেট ভবনে অত্যন্ত জাঁকজমক পূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় অলিম্পিয়াড আয়োজনের করে। তারপর বিজয়ীদের মধ্য থেকে ক্যাম্পে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেরা ৫ জনকে জাতীয় দলের চুড়ান্ত সদস্য হিসেবে নির্বাচন করা হয়। সমস্ত আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিলো বাংলাভিশন। ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, রাশিয়া, চীন, জাপান, তাইওয়ান, হংকং, থাইল্যান্ড এবং ভারতের মতো শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উন্নত দেশগুলির সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে এবং অনেক দেশকে পেছনে ফেলে এই মেডেল এবং সম্মান অর্জন করলো বাংলাদেশ। এই জয়ের মাধ্যমে কিশোরদের মাঝে পদার্থ বিজ্ঞান চর্চায় বাংলাদেশ আরোও একধাপ এগিয়ে গেলো। বাংলাদেশের এই সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ(এম,পি), মাননীয় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ডাচ বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে, এস তাবরেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ আআমস আরেফিন সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মিসেস নাজনীন সুলতানা, বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের চেয়ারম্যান ডঃ খোরশেদ আহমদ কবীর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ডঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল সহ আরো অনেকে। বার্তা প্রেরক এফ,এ,জাহাঙ্গীর মাসুদ সাধারন সম্পাদক বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াড কমিটি


Our Partner: